২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্ত্বর ও ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাশকতার ঘটনায় করা মামলা থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নাম প্রত্যাহার না করাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে এই আক্ষেপের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
পাশাপাশি গত বছর স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় কারাগারে থাকা হেফাজত নেতাদের মুক্তিসহ ৬টি দাবি তোলা হয়েছে চিঠিতে।
এতে বলা হয়, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, জামিন-পরবর্তী তারা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না, যাতে রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।’
মঙ্গলবার হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ও ফোরকান উল্লাহ খলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস, ঢাকা মহানগর সভাপতি আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ আজহারী উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক শেষে সাজিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তারা কারাবন্দি আলেমদের মুক্তিসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, আগামী ঈদুল আযহার আগে হেফাজতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আটককৃত আলেম-উলামা ও হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তি দেওয়ার দাবি মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। এসময় বন্দি আলেমদের অনেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হুইলচেয়ারে আদালতে আসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আলেম-উলামাদের অনেকে গ্রেফতার থাকায় তাদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের দুরাবস্থার বিষয়টিও মন্ত্রীকে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়-
গণকমিশন নামে একটি ভুঁইফোড় সংগঠন দেশের ১১৬ আলেম ও ১০০০ হাজার মাদরাসার নামের লিস্ট তৈরি করেছে। তারা এটির নাম দিয়েছে ‘শ্বেতপত্র’। এরই মধ্যে তারা এই শ্বেতপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনেও জমা দিয়েছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই এটি দেশের আলেম-ওলামা ও মসজিদ মাদরাসার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা কথিত শ্বেতপত্রে দেশের প্রায় সব মাদরাসাকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
চিঠিতে তারা বলেন- আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে কথিত এই শ্বেতপত্র বাজেয়াপ্ত করতে হবে। এবং গণকমিশন নামের কথিত এই সংগঠনের লোকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করার চক্রান্ত করছে।
এতে আরও বলা হয়, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর সময় থেকে বারবার বলা হয়েছে হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত ২০১৩ ও ২০১৬ সালের মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে তার একটিও প্রত্যাহার করা হয়নি। বরং গত বছর যেসব আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের প্রায় সবাইকেই ২০১৩ ও ২০১৬ সালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। উপরন্তু ২০২১ সালে নতুন আরও অনেক মামলা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করুন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতা মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়িশা (রা.) সম্পর্কে চরম অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো মুসলিম বিশ্ব প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। বাংলাদেশের নবিপ্রেমিরাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমরা আপনার মাধ্যমে সরকার প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, যেন এই ঘটনায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়।
আরও বলা হয়, শিক্ষা আইন-২০২২ -এর খসড়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এই শিক্ষা আইনে যেহেতু কওমি মাদরাসাসহ সব ধরনের শিক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তাই আমাদের দাবি হচ্ছে, খসড়া কমিটিতে কওমি মাদরাসার ওলামায়ে কেরামের প্রতিনিধিত্ব যেন থাকে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নেতা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তাদের বলেছেন আপনাদের কয়েকজন নেতা কারাগারে অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে আমি বিষয়টিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। এছাড়া গণকমিশনের শ্বেতপত্র বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর কোনো কার্যকারিতা নেই এবং এটা আর অগ্রসর না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
